মধু নামটা আমরা সবাই চিনি। মধু নাম টা যেমন সুন্দর এর স্বাদটাও তেমনি অতুলনীয়। আমরা সবাই কম বেশি মধু খেয়ে থাকি। কিন্তু আমরা অধিকাংশই মধুর উপকারিতা সম্বন্ধে অজ্ঞ। তাই আজকে আমরা মধুর উপকারিতা ও অপকারিতা সম্বন্ধে জানবো । যা সবারই জানা দরকার। তার আগে মধু সম্বন্ধে আমরা কিছু জেনে নেয়।
মধু মৌমাছি ফুলের রস থেকে তৈরি করে এবং এটি একটি
মিষ্টি জাতীয় খাবার। এটিকে আল্লাহ প্রদত্ত প্রাকৃতিক এ্যান্টিবায়োটিক বলা হয়। যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে বহু অংশে বাড়িয়ে দেয়। মধুতে বিদ্যমান প্রাকৃতিক ফ্রুক্টোজ এবং গ্লুকোজ আমাদের শরীরে সাথেসাথে এনার্জি যোগায় । এছাড়া মধুতে রেয়েছে বিভিন্ন ধরণের অ্যামাইনো এসিড, খনিজ লবণ,ভিটামিন ইত্যাদি।
মধুর উপকারিতা কি কি?
মধুতে প্রচুর পরিমালে উপকারিতা রয়েছে। যা আপনার শরীরের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তো চলুন জেনে নেয়ে কি সেই উপকারিতা গুলো:
- মধুতে রয়েছে বিভিন্ন খনিজ উপাদানসমূহ। নিয়মিত মধু পানে আমাদের শরীরে এসব খজিনের (লৌহ, কপার, ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি) অভাব অনেক আংশে পূরণ হয়৷
- মুখের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ঘায়ের চিকিৎসায় মধু খুবই কার্যকরী এবং মধু আমাদের দাঁতকে অনেক মজবুত করে।
- মৌসুমি জ্বর,সর্দি উপশমে তুলসি পাতার রসের সঙ্গে খাঁটি মধু মিশিয়ে কয়েকদিন নিয়মিত পান করলে এটা দারুণভাবে কাজ করে।
- অনেকে ফুসফুসের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন এমনকি অনেকে ফুসফুস করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ তাদের জন্যও মধু অনেক কার্যকরী৷
- মধু দিয়ে গাঁজানো রসুন নিয়মিত সেবনে ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশন নিরাময়, রক্তের কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমানো, ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ,শরীরের ওজন কমানো, ইত্যাদি উপকারিতা পাওয়া যায়।
- মধু শিশুদের হাড়ের গঠন মজবুত করে, স্মৃতিশক্তি এবং দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে।
- রাতের বেলা দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করলে আপনার অনিদ্রা দূর করতে অনেক সাহায্য করবে।
- মধু আমাদের শরীরে রক্তনালী প্রসারণের মাধ্যমে হৃদপেশির কার্যক্রমে বিশেষ ভূমিকা রাখে এবং শরীরে রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে।
- মধু পানে শরীরের সকল কোষ্ঠকাঠিন্যতা দূর হয় ৷
- নিয়মিত মধু পান বাতের ব্যথা উপশম ঘটায়।
- মধুতে বিদ্যমান অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ত্বকের রং সুন্দর করে এবং তারুণ্যতা বজায়ে রাখতে সহায়তা করে।
- মুখের ব্রণ এর চিকিৎসায়, ত্বক এবং চুলের রূপচর্চায় মধু ব্যবহারে বিশেষ সুফল পাওয়া যায়।
- মধু আমাদের শরীরে তৎক্ষনাৎ শক্তি যোগায়, শারীরিক দুর্বলতা দূর করে এবং শরীরে তাপ উৎপন্ন করে।
- মধুতে রয়েছে বিভিন্ন প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এর ফলে নিয়মিত খাঁটি মধু পানে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি হয়।
- মধু আমাদের শরীরে খাবারের হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে ।
- যারা রক্তশূন্যতায় ভুগছেন, মধু তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারি। রক্তে হিমোগ্লোবিন এর পরিমাণ বৃদ্ধিতে সহায়তার মাধ্যমে মধু শরীরের রক্তশূণ্যতা অনেক দূর করে।
মধুতে বিদ্যমান উপাদানসমূহ কি কি?
সর্বমোট ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। এটিতে থাকে
- ২৫ থেকে ৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ
- ৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ ফ্রুক্টোজ
- ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ
- ৫ থেকে ১২ শতাংশ মন্টোজ
- ২২ শতাংশ অ্যামাইনো অ্যাসিড
- ২৮ শতাংশ খনিজ লবণ
- ১১ শতাংশ এনকাইম
১০০ গ্রাম মধুতে প্রায় ২৮৮ ক্যালরি থাকে।
এতে চর্বি ও প্রোটিন নেই।
Also Read: মেথির উপকারিতা ও অপকারিতা
মধু খাওয়ার সঠিক সময়
সারাদিনের যেকোন সময়েই আপনি মধু পান করতে পারেন। তবে দিনের যে সময়ে আপনি ক্লান্ত অনুভব করবেন তখন, মধু খেলে তৎক্ষণাৎ প্রশান্তি পাবেন এবং শরীরে তাৎক্ষণিক এনার্জি পাবেন।
তবে মধু খাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো সকালে খালি পেটে মধু পান করা। এতে অনেক উপকারিতা পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে আপনি সকালে খালি পেটে কয়েক চামচ মধু হাতের তালুতে নিয়ে চেটে খেতে পারেন। কিংবা মধু দিয়ে শরবত তৈরি করেও আপনি পান করতে পারেন। শরবতে চিয়া সিড,লেবুর রস, এগুলি ব্যবহার করতে পারেন।
মধুর অপকারিতা কি?
আপাতদৃষ্টিতে মধুর কোনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অপকারিতা নেই। তবে সব জিনিসের একটা সীমা রয়েছে। তাই আপনি যদি মধু বেশি পরিমাণ খেয়ে ফেলেন তা হয়ে শরীর অনেক খারাপ হতে পানে। এটিকে সবসময় পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত। এটি বেশি খেলে দেহে অস্থিরতা বা জ্বলা ভাব দেখা দিতে পারে। যাদের এটি থেকে এলার্জি হয় তাদের এটি খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো।
Also Read: রসুনের উপকারিতা ও অপকারিতা
আশা করি আপনারা মধুর উপকারিতা ও অপকারিতা বুঝতে পেরেছেন। যদি আরো কিছু জানার ইচ্ছা থাকে তাহলে আমাদের এই পোস্ট এর নিচে কমেন্ট করুন। আমরা আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।
